প্রিয় মুখ নিয়ে যখন ভাবতে বসলাম, তখন একটা সিনেমার সিকুয়েন্সের মতো কিছু ঘটনা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। যেন একটা বায়োগ্রাফিক্যাল মুভি, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে জীবনযুদ্ধ আর হারতে না শেখার শিক্ষা। তাই সেই মুভিটিরই একটা ছোট্ট স্ক্রিপ্টের মতো লেখার চেষ্টা করলাম।
পঞ্চাশ দশকের শেষের দিক। নড়াইলের নলদী জমিদার বাড়ি। একটা বড় খাটের একপাশে বালিশে হেলান দেয়া একজন যুবতী। পাশের টেবিলটায় বেশ কিছু ওষুধের শিশি। খাটের অন্যপাশে ঘুমাচ্ছে তার দুটি ছেলে। একজন কিছুটা বড়, বয়স দুই-তিন বছর হবে, অন্যজন আরও ছোট, দুধের শিশু। সে ঘাড় ঘুরিয়ে তার ছেলেদের দিকে তাকায়, তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে দুশ্চিন্তার ছাপ। সে টের পায় তার সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। পাশে রাখা কাগজ-কলম টেনে নেয় সে। খুলনায় তার শাশুড়িই এখন তার শেষ ভরসা। কাঁপা হাতে সে লিখতে থাকে – ‘মা, আমি না থাকলে আপনার আদরের নাতিদের ওরা বিলিয়ে দেবে। আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন এসে আপনার নাতিদের নিয়ে যান...।’






