পৃষ্ঠাসমূহ

স্মৃতিকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
স্মৃতিকথা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৪ ফেব, ২০১৪

ভালোবাসার সূর্যরেখা

প্রিয় মুখ নিয়ে যখন ভাবতে বসলাম, তখন একটা সিনেমার সিকুয়েন্সের মতো কিছু ঘটনা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল। যেন একটা বায়োগ্রাফিক্যাল মুভি, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে জীবনযুদ্ধ আর হারতে না শেখার শিক্ষা। তাই সেই মুভিটিরই একটা ছোট্ট স্ক্রিপ্টের মতো লেখার চেষ্টা করলাম।

পঞ্চাশ দশকের শেষের দিক। নড়াইলের নলদী জমিদার বাড়ি। একটা বড় খাটের একপাশে বালিশে হেলান দেয়া একজন যুবতী। পাশের টেবিলটায় বেশ কিছু ওষুধের শিশি। খাটের অন্যপাশে ঘুমাচ্ছে তার দুটি ছেলে। একজন কিছুটা বড়, বয়স দুই-তিন বছর হবে, অন্যজন আরও ছোট, দুধের শিশু। সে ঘাড় ঘুরিয়ে তার ছেলেদের দিকে তাকায়, তার চোখেমুখে ফুটে ওঠে দুশ্চিন্তার ছাপ। সে টের পায় তার সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। পাশে রাখা কাগজ-কলম টেনে নেয় সে। খুলনায় তার শাশুড়িই এখন তার শেষ ভরসা। কাঁপা হাতে সে লিখতে থাকে – ‘মা, আমি না থাকলে আপনার আদরের নাতিদের ওরা বিলিয়ে দেবে। আপনি যত তাড়াতাড়ি পারেন এসে আপনার নাতিদের নিয়ে যান...।’


২৫ জানু, ২০১৪

মধুকবি ও এতক্ষণে অরিন্দম

আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন। আমার ব্লগের নামটির জন্য আমি মধুকবির প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর রচিত মেঘনাদবধ কাব্যের(১৮৬১) একটি পংক্তি থেকেই আমার নগণ্য ব্লগটির নামকরণ করেছিলাম এতক্ষণে অরিন্দম। বিষয়টি অনেকেই জ্ঞাত আছেন, আবার অনেকে বিভিন্ন সময় আমার কাছে জানতেও চেয়েছেন― সেই কারণে আজ এই বিশেষ দিনে ব্লগের নামটি নিয়ে কিছু কথা বলার ইচ্ছে হল।


২৪ জুল, ২০১৩

আম্মুর জন্মদিন ২০১৩


আম্মু,

তোমাকে নিয়ে কিছু বলতে গেলেই অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু আমি হচ্ছি দরিদ্র জেলে আর বড়ই ছোট্ট আমার নৌকা আর জাল। সাগরসম তোমাকে কাগজবন্ধী করার ক্ষমতা আমার ক্ষুদ্র কলমের নেই। তাই ছোট্ট জাল ফেলে তুলে নিয়ে আসি গুটিকতক মাছ। সেই মাছের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমার সাগরকে ছোঁয়ার স্বপ্ন।

আজকে তোমাকে এমন একটা কথা বলি যেটা আসলে কখনও এইভাবে বলা হয়নি।


১৯ জুল, ২০১৩

আমারে তুমি অশেষ করেছ

‘আমি ঘরে ফিরে এলাম। গ্লাস ভর্তি পেপসি, সাথে কিছু বরফও ভাসছে। দুধকে পেপসি বানানোর মন্ত্র তাহলে সত্যি আছে? আমি দৌড়ে বাইরে বের হলাম। দারোয়ান শুধু বলতে পারল একটা ছেলেকে সে শিষ দিতে দিতে রাস্তা দিয়ে চলে যেতে দেখেছে…’

এই লাইনগুলি কতদিন আগে পড়া? বারো বছরের বেশী তো হবেই। কিন্তু মনে হয় যেন এই সেদিন পড়েছি। আমার মস্তিস্ক এতদিন ধরে এই লাইনগুলি সযত্নে সংরক্ষণ করে চলেছে। কিন্তু কেন? এই লাইনগুলি আমাকে আমার ছেলেবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে এই কি তার কারণ? এই লাইনগুলা তো শুধু গল্পের লাইন নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে ছোটবেলার ফেলে আসা মফস্বল, বাড়ির ছাদ, স্কুল, আম্মুর হাতের মার, পেছনের পুকুরে পড়ে যাওয়া টেনিস বল…আরও কত কি! আর হ্যাঁ, এবং অবশ্যই একটি ধূসর মলাটের গল্পের বই। বইটির নাম – ‘মজার ভূত’। লেখক – ‘হুমায়ূন আহমেদ’। আমাদের অতিপ্রিয় হুমায়ূন স্যার। যিনি ভূতের মত ভয়ঙ্কর একটা জিনিসের মধ্যেও মজা ছড়িয়ে দিয়ে আমার ছেলেবেলাকে কল্পনার রঙে রঙিন করে তুলেছিলেন।


২৭ জুন, ২০১৩

কিংবদন্তির বিদায়!

'এ্যাই তোর রোল নম্বর ৩১ ছিলনা?'

আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে যাই। আমতা আমতা করতে থাকি। স্কুল ছেড়েছি প্রায় ৬-৭ বছর আগে। রোল নম্বর কত ছিল সেটা তো মনে নাই।

'ক্লাশ নাইনে ৩১ ছিল তো নাকি?', স্যার আবারও জানতে চান।

এইবার আমার মনে পড়ে যায়। সেন্ট জোসেফস্‌ স্কুলে আমি যখন ভর্তি হই তখন ৩১ নম্বর রোলটা ফাঁকা ছিল তাই আমাকে সেটাই দেওয়া হয়েছিল। আমি স্যারের অসাধারণ স্মৃতিশক্তি দেখে অবাক হই।

এই ঘটনা প্রবাহের শুরু হয়েছিল বহুবছর আগে...


২৭ মার্চ, ২০১৩

অনিকেত প্রান্তরে একটি অন্যসময়ের অনুভূতি

এরশাদ ভাই আর্টসেল ছেড়ে দিচ্ছেন এই খবরটা এসেছিল গতবছরের মে মাসে। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম যে আর্টসেল আর সেই আগের আর্টসেল থাকছে না। প্রায় এক বছর পর ফেসবুকে অন্য ব্যান্ড মেম্বারদের অফিশিয়াল ঘোষণার ভিডিওটির মাধ্যমে জানা গেল আর্টসেল ব্যান্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমি কলেজ লাইফ থেকে আর্টসেল শুনতে শুনতে বড় হয়েছি, তাই এই ব্যাপারটা মেনে নেওয়া আমার জন্য বেশ কষ্টকর। এরশাদ ভাইয়ের আর্টসেল ছেড়ে দেবার খবরটা পাবার পর আর্টসেলকে নিয়ে এই লেখাটি লিখেছিলাম। এরশাদ ভাইকে নিয়ে লিখলেও এটা আসলে আমার জীবনে আর্টসেলের গল্প। আর্টসেল ভেঙ্গে যাওয়ার খবরটা পাওয়ার পর এই লেখাটার কথা আবার মনে পড়ে গেল। কিছু ফেলে আসা স্মৃতি মানুষকে চিরকাল আবেগাপ্লুত করে, আমার জীবনে আর্টসেল তেমনি একটা সুখস্মৃতি। RIP আর্টসেল!



১১ মার্চ, ২০১৩

উইড়া যায় রে পক্ষী তার পইড়া থাকে ছায়া



ওর সাথে আলাদাভাবে বসে ঠিক কথা হয়নি কোনদিন।

ওকে আমি চিনতাম, ও আমাকে চিনত। আমার খুব কাছের একটা বান্ধবী তানির বন্ধু ছিল ও, সেভাবেই পরিচয়। আমাকে অরিন নামে ডাকত ও। দেখা হলেই বলত, 'এই অরিন, কেমন আছিস রে?'। আমাদের মধ্যে তুই-তুকারি সম্পর্ক ছিল। ও বেশীরভাগ কথা শুরু করত এইভাবে, 'এই শোন...'। ওর সাথে আর দেখা হবেনা, ও একইভাবে আর কিছু শোনাতে চাইবে না কোনদিন।

কিছুক্ষণ আগে মনে পড়ল। ওর সাথে শেষবার দেখা হয়েছিল সাত রাস্তার মোড়ে, সেটাও বহুদিন আগে। সেদিনও ও ছিল একই রকম ছটফটে। চৌধুরী মামা'র চায়ের দোকানের সামনে যে ফাঁকা মত জায়গাটা আছে, সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা সবাই চা খেয়েছিলাম সেদিন। সন্ধ্যা হয়ে এসেছিল, দোকানপাটে জ্বলে ওঠা বাল্বের লাল আলোতে ওর চশমার কাঁচটা ঝকমক করছিল, এখনও চোখ বন্ধ করলে আমি যেন দেখতে পাই। ও চলে যেতে চাইলে আমি বলেছিলাম, 'আরেহ, পরে যাইস'। ও বলল, 'না রে, বাসায় যেতে হবে'। শেষবারের মত চলে গিয়েছিল ও।


১৫ ফেব, ২০১৩

জননী সর্বংসহা


আমরা তখন যশোরে থাকি। আমাদের বাসা ছিল একটা লম্বা গলির ভেতরে। বাবা অফিসে যাওয়ার সময় আমরা ছোট্ট দুই ভাই-বোন ঐ গলির মুখে গিয়ে দাঁড়াতাম, মা থাকতেন বাসার গেটে। বাবার মোটরসাইকেলটা চোখের আড়াল হয়ে যাওয়া মাত্রই আমাদের দৌড় শুরু হত। দৌড়ে প্রথম হয়ে মা'কে স্পর্শ করার উদ্দেশ্যেই ছিল আমাদের ভাই-বোনের মধ্যেকার এই প্রতিযোগিতা। মা'কে জড়িয়ে ধরতে পারাই ছিল এক পরমানন্দের উপলব্ধি। আমার ছেলেবেলায় প্রাচুর্য ছিলনা সত্যি, কিন্তু বহু ছোট ছোট আনন্দের উপাদানে পূর্ণ ছিল সময়টা। সেই সময়টার পুরোভাগে ছিলেন আমার মা, যাকে চাইলেই কাছে পাওয়া যেত, যার কাছে ছিল আমার সমস্ত আবদার।