দেশের প্রতি ভালবাসাকে এক
কথায় আমরা বলি 'দেশপ্রেম।' সংজ্ঞা ও প্রকাশে বিভিন্নতা থাকলেও এ শব্দের রয়েছে অনন্য
এক বৈশিষ্ট্য। দেশপ্রেম নিয়ে কথা উঠলে কেউ কোনদিন প্রশ্ন করবেনা যে ঠিক কোন দেশের প্রতি
প্রেমের কথা বলা হচ্ছে, কারণ দেশপ্রেমের 'দেশ' এক জন্মভূমি ছাড়া অন্য কোন দেশ হতেই
পারে না। আমরা যেখানেই যাই না কেন, দিনশেষে জন্মভূমিই আমাদের আশ্রয়, সেখানেই প্রোথিত
আমাদের পরিচয়।
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
১৩ মার্চ, ২০১৪
১৭ মে, ২০১৩
প্রেম কী!
বিশ্বসাহিত্যের
ইতিহাসে ‘প্রেম’ই বোধকরি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এমনকি
যেসব সাহিত্যিকেরা কোনদিন প্রেম নিয়ে কিছু লেখেননি, তারাও সুযোগ বুঝে প্রেম
সম্পর্কিত দু’একটা মন্তব্য করতে
পিছপা নন। জর্জ বার্নার্ড শ ছিলেন ঠোঁটকাটা ধরণের মানুষ। তিনি তো সরাসরি বলেই দিলেনঃ
‘প্রেম হচ্ছে সিগারেটের মত, যার শুরু
আগুন দিয়ে আর শেষ পরিণতি ছাইতে’।
আমাদের রবিবাবু আবার প্রেমের জন্য সবকিছু করতেই রাজী ছিলেন। তিনি গাইলেনঃ ‘চরণে ধরিয়া তব কহিব প্রকাশি, গোপনে
তোমারে, সখা,
কত ভালোবাসি’। অবশ্য, এসব বড় বড় মনিষীদের কথা বোঝা বড়ই দুষ্কর, এনাদের কথার
মাঝে অন্তর্নিহিত অর্থ মাঝে মাঝে কিঞ্চিত বিপরীতার্থক হওয়াও বিচিত্র নয়।
১৭ মার্চ, ২০১৩
সাংস্কৃতিক যুদ্ধক্ষেত্র ও শাহবাগ আন্দোলন
রাষ্ট্র পরিচালনার
ক্ষেত্রে বাঙ্গালির দূর্বলতার কারণ
হিসেবে অনেকে
মনে করেন
যে বাঙ্গালি জাতি চিরদিন শুধু শোষিত
হওয়ার ফলে
তারা শাসন
করতে শেখেনি। সেই পাল, সেন, মোঘল থেকে আরম্ভ
করে ব্রিটিশ, পাকিস্তান আমল
পর্যন্ত বাঙ্গালি জাতি শুধু
বহিরাগতদের দ্বারা শাসিত হয়ে
গেছে অবিরাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে
তাজউদ্দীন আহমদ
বলেছিলেন - আমরা আমাদের কর্মীদেরকে আন্দোলন করা
শিখিয়েছি, দেশ গড়ার কাজ
কিভাবে করতে
হবে তা
শেখাইনি। তবে গোটা ব্যাপারটির উপর যদি
বিপরীত দিক
থেকে আলোকপাত করা হয়
তাহলে দেখা
যাবে যে
উপর্যুপরি শোষণের ফলে বাঙ্গালিমাত্রই জানে কিভাবে আন্দোলন করতে হয়। আন্দোলন করা বাঙ্গালিকে শিখতে
হয় না, আন্দোলন মিশে
আছে বাঙ্গালির রক্তে। এর প্রমাণ বাঙ্গালি দিয়েছে বারবার, বহুবার। বাঙ্গালির
এই আন্দোলন পরিপূর্ণতা পায়
১৯৭১ সালের
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ নামের স্বাধীন ভূখন্ডের জন্মের মাধ্যমে।
১৫ ফেব, ২০১৩
জননী সর্বংসহা
আমরা তখন যশোরে
থাকি।
আমাদের বাসা
ছিল একটা
লম্বা গলির
ভেতরে।
বাবা অফিসে
যাওয়ার সময় আমরা ছোট্ট দুই ভাই-বোন ঐ
গলির মুখে
গিয়ে দাঁড়াতাম,
মা থাকতেন
বাসার গেটে। বাবার
মোটরসাইকেলটা চোখের আড়াল হয়ে যাওয়া মাত্রই
আমাদের দৌড়
শুরু হত। দৌড়ে প্রথম হয়ে
মা'কে
স্পর্শ করার
উদ্দেশ্যেই ছিল আমাদের ভাই-বোনের
মধ্যেকার এই
প্রতিযোগিতা। মা'কে জড়িয়ে
ধরতে পারাই
ছিল এক
পরমানন্দের উপলব্ধি। আমার ছেলেবেলায়
প্রাচুর্য ছিলনা সত্যি, কিন্তু বহু
ছোট ছোট
আনন্দের উপাদানে
পূর্ণ ছিল
সময়টা।
সেই সময়টার
পুরোভাগে ছিলেন
আমার মা,
যাকে চাইলেই
কাছে পাওয়া
যেত, যার
কাছে ছিল
আমার সমস্ত
আবদার।
১৪ ফেব, ২০১৩
১৪ই ফেব্রুয়ারি ও আমাদের দায়বদ্ধতা
বাঙ্গালির জীবনে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি আসে
ভিন্ন আবেদন নিয়ে, বিভিন্ন উদযাপন করার উপলক্ষ্য নিয়ে। সে উপলক্ষ্য হতে পারে
সাংস্কৃতিক, হতে পারে রাজনৈতিক, হতে পারে এর বাইরেও। এই শেষ শ্রেনীভুক্ত বর্তমান প্রজন্মের প্রেমিক-প্রেমিকাদের
মধ্যে সবচাইতে জনপ্রিয়টি হল ১৪ই ফেব্রুয়ারি,
ভ্যালেন্টাইনস্ ডে।
এইদিনে ৫টাকার গোলাপ ২০, ৩০ বা তার থেকে
বেশী টাকা দামেও বিকোয়। নবীন বয়সের সবার হাতেই ফুলের দেখা মেলে। সারা দেশে বেশ
একটা উৎসব উৎসব ভাব তৈরী হয়। শাহবাগ থেকে টিএসসি, চারুকলা, বইমেলা সব জায়গায় দেখা
যায় যুগলবন্দীদের ভিড়। শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোর সামনের জায়গাগুলো লাল গোলাপের
ঝরে পড়া পাঁপড়িতে লাল হয়ে ওঠে। তবু এই দিনে একসাথে ঘুরে বেড়ানো
প্রেমিক-প্রেমিকাদের অনেকেরই অজানা থেকে যায় যে, আজ থেকে ২৯ বছর আগেকার ঠিক এই
দিনেও রাস্তা রক্তাক্ত হয়েছিল। তবে সেটা গোলাপের পাঁপড়ি ছিল না, ছিল মানুষের বুকের
তাজা রক্ত।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)



