পৃষ্ঠাসমূহ

২১ জুন, ২০১৫

সিনেমার পর্দায় বাবা-ছেলে

সিনেমাকে বলা হয় বাস্তবের পুনঃনির্মাণ। তাই অনেক সিনেমাই আমাদের জীবন ঘেঁষে হেঁটে যায়। তখন সেলুলয়েডের জানালা দিয়ে আমাদের নিজেদের জীবনেরই অনেক অনুভূতি আমরা পুনরায় আবিষ্কার করি। আর এই অনুভূতিগুলো কখনও ফুরিয়ে যায় না, সেই সিনেমাগুলো আবার কখনও দেখতে বসলে সেই একই অনুভূতিগুলো হৃদয়ের মাঝে ফিরে আসে।

বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে যেসব সিনেমা দেখেছি সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে, মনে করিয়ে দিয়েছে নিজের জীবনেরই ছোট ছোট কোন ঘটনা অথবা স্বপ্নের কথা। এগুলোর মধ্যে কয়েকটা হয়ত খুবই নামকরা সিনেমা, কিছু হয়ত একান্তই ব্যবসায়িক সিনেমা। সেগুলোর মধ্যে থেকে সাতটি সিনেমা নিয়ে এই লেখাটি। কোন সিনেম্যাটিক বিশ্লেষণ নয়, শুধু ঘটনাগুলোকে হালকা স্পর্শ করে যাওয়ার চেষ্টা করলাম এখানে।।


৩১ মে, ২০১৫

বছর ঘুরে অতন্দ্রিলা

আমি প্রতিদিন নিজেকে অতিক্রম করে যাচ্ছি,
জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে স্পর্শ করে করে—
আমি অতিক্রম করে যাচ্ছি তোমার মায়াময় দু'টি চোখ,
গালভেজা তোমাকে আমি যাচ্ছি পেছনে ফেলে,
যুদ্ধে যাওয়া সৈনিকের মত, মাথায় শিরস্ত্রাণ চাপিয়ে
আমি রেখে যাচ্ছি জীবনের সমস্ত ক্লেদ,
যত আশা, যত প্রেম, যত ভালবাসা—
তোমার-আমার বর্ণিল সময়ের কবিতা,
ক্রমশ গ্রাস করে নিচ্ছে এক বিষণ্ন ঋণাত্মক কুয়াশা,
আমাদের আকাশে স্বপ্নঘুড়ির ছেঁটে ফেলা ডানা,
সপ্তাহশেষ রাত্রির রানওয়ের জানালা—
—অতন্দ্রিলা—
তোমার নীল রঙের শাড়ী—কমলা রঙের রোদ,
স্মিত হাস্যে কঠোর কপট ক্রোধ,
অতীত—ভীষণ অতীত হয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন,
বিপন্ন কাঁচপোকারা ঘুমিয়ে গেছে সেই কবে—
জোনাকিরাও নীরব হয়েছে অপ্রেমের ফাঁদে,
মেঘ ছুঁয়ে ওড়া ক্লান্ত বুনোহাঁসের মত,
নিওলিথ জ্যোৎস্নায় ওরা ফিরে যাবে আজ,
আকাশের যত নক্ষত্র—উজ্জ্বলতম তারা—
নিয়ে চলে যাবে মহীনের ঘোড়া—অথবা
জীবনানন্দের হন্তারক ট্রামে চেপে নির্জনতার সুর, আজ—
বিপরীত দিকে আরও বহুদূর—বহুদূর চলে যাব আমরা।।


২১ মে, ২০১৫

নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা - এপ্রিল ২০১৫

নামটা দেখেই প্রথম ভাল লেগেছিল— 'নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা'। জেনেছিলাম ফেসবুকের মাধ্যমেই। পড়েশুনে বুঝলাম যে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে নতুন নির্মাতাদের সিনেমা নিয়ে আয়োজিত একটি বছরব্যাপী প্রতিযোগীতা এটি। প্রতিযোগীতায় স্বল্পদৈর্ঘ্য, পূর্ণদৈর্ঘ্য এবং প্রামাণ্যচিত্র— এই তিনটি বিভাগ রয়েছে। আরও জানলাম প্রতিযোগীতার প্রথম প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার ২রা মে ২০১৫ বিকাল ৪টায়, শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে। মনে হল এই আয়োজনটি নতুন নির্মাতাদের যোগ্যতা প্রমাণের একটি ভাল প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। তাই আমি প্রদর্শনীটি দেখতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।


৭ এপ্রি, ২০১৫

ঈপ্সিত জীবন

বহুতল ভবনের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে আতিকুর। পায়ের স্যান্ডেলের ছিঁড়ে যাওয়া ফিতেটা দেখে নিচ্ছে বারবার। ময়লা সবুজ শার্টের বুকপকেটে বলপয়েন্টের কালির দাগ। গ্রাম থেকে আজ সকালেই রাজধানীতে এসেছে সে। এখন চৈত্রের প্রচণ্ড রৌদ্রের দুপুরে ঘেমে নেয়ে উঠে একটু জিরিয়ে নিচ্ছে দালানের ছায়ায়।


২৮ মার্চ, ২০১৫

একুশ মার্চের রাত্রিতে

পাটুরিয়া ফেরীঘাট। গভীর রাত। ঘড়ির কাঁটা প্রায় দেড়টা ছুঁয়েছে। শাহ জালাল, শাহ পরাণ, শাহ আমানত অথবা শাহ 'কিছু একটা' নামের একটা ফেরীর উপরে আমি দাঁড়িয়ে আছি। আমার পেছনে ও পাশে সারি সারি বাসের ভিড়। সেই বাসগুলোর মাঝে সৃষ্ট সরু গলির ভেতর দিয়ে দারুণ দক্ষতায় ধূলো থেকে গা' বাঁচিয়ে লোকজন অবলীলায় যাতায়াত করে চলেছে। আমার জন্য ব্যপারটা অন্য সবার মত সহজ ছিল না। আমার কাঁধে ল্যাপটপের হোঁৎকা-মোটা ব্যাগটা আমাকে ওখান থেকে গলে যেতে দেয়নি। অতঃপর কিছুটা কসরৎ করে ব্যাগটাকে হাতে ঝুলিয়ে নিয়ে সেখান থেকে পার হতে হয়েছে। আপাতত ফেরীর পাশের দিকে লোহার ব্যারিকেডের ধারে আমি অবস্থান নিয়েছি। উচ্চস্বরে ফেরীর সাইরেন বাজছে— প...অঅঅঅঅ। এই শব্দটা কেমন একটা অদ্ভুত দুঃখমাখা অনুভূতি সঞ্চারিত করে হৃদয়ের ভেতর। আমি প্রতিবার খেয়াল করেছি এটা। কেউ যেন বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে কারও কাছ থেকে। সত্যিই কি তাই? অথবা এমনও হতে পারে আমি নিজের জীবনের ঘটনাপ্রবাহের সাথে আশেপাশে শোনা শব্দগুলোকে মেলাতে চেষ্টা করছি নিজের অজান্তে। আমার জীবন যেন কোন সিনেমার ফিল্ম, মুভিওলায় বসে ভিজ্যুয়ালের জন্য খুঁজছি সুপ্রযোজ্য সুর। অথবা মনে পড়ে যায় 'শাটার আইল্যান্ড'-এর সেই সাইরেনের কথা। এখনও মনে পড়লে ভয় করে, কান দিয়ে প্রবেশ করে হৃদয়ের ভেতর গিয়ে যেন হাতুড়ি পিটতে থাকে সেই শব্দ।


১৭ ফেব, ২০১৫

বরফসন্ধ্যায় অরণ্যের ভেতর — রবার্ট ফ্রস্ট

এই অরণ্য যার—মনে হয় যেন আমি তাকে চিনি,
নিবাস তাঁর ঐ দূর গ্রামের ধারে,
জানবে না সে থমকে দাঁড়িয়ে দেখছি আমি—
স্নিগ্ধ বনভূমি ঢেকে যাচ্ছে ধবল তুষারে।

ভাবছে ঘোড়া এখানে থামছি কেন,
আশেপাশে নেই তো কোন খামারের আশ্রয়,
বিস্তৃত অরণ্যানী আর জমাট হ্রদের ধারে,
এই শীতল সময়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ধ্যায়।


২৯ জানু, ২০১৫

ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো

The people who are crazy enough to think they can change the world are the ones who do.

— Apple's 'Think Different' commercial, 1997

পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দেবে এমন উদ্ভট চিন্তা করা উন্মাদেরাই শুধুমাত্র সেটা করতে পারে

এ্যাপেলের 'থিংক ডিফরেন্ট' কমার্শিয়াল, ১৯৯৭


২৭ ডিসে, ২০১৪

অমলেন্দু কবি হতে চেয়েছিল

সেদিন প্রবল বর্ষণে চারিদিক অন্ধকার। আষাঢ় যেন পূর্ণোদ্যমে নেমে এসেছিল আকাশ ফুঁড়ে। হঠাৎ বৃষ্টির গন্ধে মাতাল পরিবেশ। বাইরে মানুষপাখিরা দিশেহারা। ওপাশের নারিকেল গাছগুলো যেন তীব্র বাতাসে মাটি ছুঁতে চাইছিল। শক্তিশালী বিজলি চমকে সারা আকাশ ভয়ানক সাদা আলোয় আলোকিত হয়ে যাবার পরমুহূর্তেই গুড়গুড় শব্দে কোন দানব যেন প্রকৃতিকে ভেঙে ফেলছিল প্রচণ্ড আক্রোশে। বাড়িতে সেদিন ছিল না কেউ। পরিবার গেছে সপ্তাহখানেকের জন্য অন্য একটি শহরে বিয়েতে যোগ দিতে। অফিসের ব্যস্ততায় থেকে গেছি আমি। কাজের মানুষগুলো সব যে যার মত আরাম করে ঝিমুচ্ছে এই বৃষ্টিস্নাত দুপুরে। এই দূর্যোগের মধ্যে কলিংবেলের আওয়াজে প্রথমে কিছুটা বিরক্তই হয়েছিলাম। দরজা খুলতেই পিয়ন বাড়িয়ে দিল একটি পার্সেল, তার সাথে সাঁটা একটি সস্তা খাম। ধন্যবাদ দিয়ে সেগুলো নিয়ে এলাম। পার্সেলটা রেখে খামটাই হাতে তুলে নিলাম প্রথমে। অতঃপর সেই খাম থেকেই বেরুল সংক্ষিপ্ত চিঠিটি। সংক্ষিপ্ত হলেও মূল সংবাদ তাতে পরিষ্কার।


১৮ নভে, ২০১৪

ক্লান্তদিনের শেষে

মেঘঝরা প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটায় মাটি ছোঁয় বিষন্নতা
দূর্যোগের রাতে আশ্রয় খোঁজে নিরুপায় ঘাসফড়িং
ক্ষীন আরও ক্ষীন হয়ে আসে দোয়েলের কণ্ঠস্বর
নিরাপদ বাঁশবাগানে জড়ো হয় চাঁদের ছায়ারা।


১৩ অক্টো, ২০১৪

স্পর্শ সময়

প্রথমে আমি দিন গুনতাম, তারপর সপ্তাহ!
একসময় অবাক হয়ে দেখলাম,
সাতদিনের সপ্তাহের বাঁধনে আর ধরা যাচ্ছেনা সময়টাকে!
অনন্যোপায় হয়ে মাসের সাহায্য নিলাম তারপর।
একদিন মাসের হিসেবও ফুরিয়ে এল,
আমি গুনতে শুরু করলাম বছর।


৭ সেপ, ২০১৪

দেজ্যা ভ্যু

ভেসে বেড়ানো অনুভূতিগুলো আমার খুব চেনা,
যেন কতকালের পরিচিত দেজ্যা ভ্যু।

আবছায়া রাস্তায় একটা নির্মানাধীন হাইরাইজের পাশে,
ডাগর চোখের বৃষ্টি আটকিয়ে মেয়েটি দাঁড়িয়ে থাকে,
তপ্ত দুপুরে পদ্মার চিকচিক করা পানি যেন,
হঠাৎ তার দু'চোখে এসে স্থির হয়।


৩ আগ, ২০১৪

সত্যজিৎ এর 'শতরঞ্জ কি খিলাড়ি'

ফেলুদা সিরিজের 'বাদশাহী আংটি' পড়েছেন আর মনে মনে 'ভুল ভুলাইয়া' জিনিসটা নিজের চোখে দেখার ইচ্ছা হয়নি এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আমিও এর ব্যতিক্রম কিছু ছিলাম না। কিন্তু সাধের সাথে সাধ্য আর সুযোগের মিল ছিল অপ্রতুল। ঘটনাচক্রে সেই লখনৌতে যাবার সুযোগ এসে গেল ২০০৯ সালের মাঝের দিকে।

লখনৌকে বলা হয় 'নবাবদের শহর'। সেখানে পৌঁছেই খেয়াল করলাম যে এই শহর ঠিক আর দশটা শহরের মত নয়। এখানে সব কিছুতেই কেমন যেন একটা 'বাদশাহী' ভাব বিদ্যমান। লোকজন সবাই কথা বলছে উর্দূতে, কাউকে হিন্দীতে কিছু জিজ্ঞাসা করলে একবারে বুঝতে পারে না, দু-তিনবার বলে বুঝাতে হয়। খাওয়া-দাওয়া করা মানেই একটা এলাহী কারবার। বলা হয়ে থাকে যে তৎকালীন আওয়াধ রাজ্য(যার রাজধানী ছিল লখনৌ) থেকেই কাবাবের মত ঢিমে আগুনে রান্না করা খাবারের সূত্রপাত। রাতে খেতে গিয়ে খেলাম আট রকমের মাংসের আইটেম, অনেকগুলোর নামও আমি শুনিনি আগে। শোনা যায়, আওয়াধের শেষ নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ্‌'র খাবার ছয়টা আলাদা আলাদা রন্ধনশালা থেকে আনা হত।


১৩ জুল, ২০১৪

তথাকথিত আনন্দনগরী

আলো ঝলমলে উৎসব,
চাকচিক্যময় ত্রিমাত্রিক আলোছায়া,
সুউচ্চ ভবন, অনুচ্চ সন্মান।
ভেসে আসে তাদের উদ্দাম উল্লাস,
বেমানান ফকিরটি কান পেতে শোনে।

পারফিউম আর হাইহিলের আঘাতে,
রক্ত ঝরে পথের ফকিরের ক্ষতে,
গাড়িটি এসে দরজা খুলে দাঁড়ায়।
পলিশড্‌ শু হেঁটে আসে বুকের উপর পা রেখে,
দম বন্ধ হয়ে আসে বৃদ্ধ ফকিরটির।


৭ জুন, ২০১৪

'প্রিজন ব্রেক'স

প্রায় তিন বছর আগের কথা। তখন কমিউনিটি ব্লগে সিনেমা নিয়ে লেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় হঠাৎ একদিন মাথায় চেপে বসেছিল প্রিজন ব্রেক সিনেমা দেখার ভূত। সেই ভূত নেমে যাওয়ার আগেই দেখে ফেলেছিলাম বেশ অনেকগুলো সিনেমা। প্রত্যেকটিতে পাঁচটি সিনেমা নিয়ে মোট তিন কিস্তিতে সেগুলো নিয়ে লিখেওছিলাম ব্লগে। এখন বুঝি লেখার বিচারে সেগুলো তেমন একটা উন্নত কিছু ছিল না। সেই লেখাগুলো এতক্ষণে অরিন্দম-এ পোস্ট করব কি করব না সেটা নিয়ে নিজের ভেতরই একটা দ্বন্দ্ব ছিল। শেষমেষ ভাবলাম যে এই দারুণ সিনেমাগুলোর নামের তালিকাটা জানানোর জন্য হলেও এটা পোস্ট করা উচিত। কারণ এই পনেরোটি সিনেমার বেশ কয়েকটি 'প্রিজন ব্রেক সিনেমা'র ইতিহাসের একদম প্রথম দিকের। অল্প কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে সেই তিনটি পোস্টই একসাথে তুলে দিলাম এখানে।


১৭ মে, ২০১৪

চিরন্তন চিরনূতন জিজ্ঞাস্য

কেরামত মিয়াকে পেশায় একজন ব্যবসায়ী বলা যায়। ঢাকা এয়ারপোর্টের সামান্য পরেই তার একটি চায়ের দোকান আছে। উনার স্ত্রীর নাম সালমা বেগম, তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী। তার দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন। মেঝ মেয়েটি তার সাথেই থাকে, মায়ের মত গার্মেন্টসে কাজ করে। আর ছোট ছেলেটি পাঁচ বছরের, তার নাম সোহেল। নিকুঞ্জ ২০ নম্বর রোডের শেষে একটি ছাঁপড়া ঘরে তাদের বাসা। বাসা বলতে একটি বড় বস্তির মধ্যে ছোট্ট একটি ঘর।


৩ এপ্রি, ২০১৪

আবহমান

মোমের আলোয় আজ গ্রন্থের কাছে ব'সে―অথবা ভোরের বেলা নদীর ভিতরে
আমরা যতটা দূর চ'লে যাই―চেয়ে দেখি আরো-কিছু আছে তারপরে।

― জীবনানন্দ দাশ


১৭ মার্চ, ২০১৪

পুরাতন বনলতা সেন

হোক সে লাল-কাল জামা পরা মেয়েটি,
অথবা হোক না নাটোরের বনলতা সেন!
আশায় থাকি ডাক দিয়ে বলবে সে
এ্যাঁই যে স্যার, এতদিন কোথায় ছিলেন?

গভীর রাতে মোবাইলের অপর প্রান্তে,
অথবা কোন দারুচিনি দ্বীপের ভিতর
হয়ত তার চোখে জ্বলে কপট আগুন,
আরও থাকে অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার



১৩ মার্চ, ২০১৪

প্রিয় মৃত্তিকা

দেশের প্রতি ভালবাসাকে এক কথায় আমরা বলি 'দেশপ্রেম।' সংজ্ঞা ও প্রকাশে বিভিন্নতা থাকলেও এ শব্দের রয়েছে অনন্য এক বৈশিষ্ট্য। দেশপ্রেম নিয়ে কথা উঠলে কেউ কোনদিন প্রশ্ন করবেনা যে ঠিক কোন দেশের প্রতি প্রেমের কথা বলা হচ্ছে, কারণ দেশপ্রেমের 'দেশ' এক জন্মভূমি ছাড়া অন্য কোন দেশ হতেই পারে না। আমরা যেখানেই যাই না কেন, দিনশেষে জন্মভূমিই আমাদের আশ্রয়, সেখানেই প্রোথিত আমাদের পরিচয়।


২৩ ফেব, ২০১৪

প্রিয় অতন্দ্রিলা

অতন্দ্রিলা,
তুমি জানলেনা কোনদিন,
তোমার মুখে ঐ কথাটি শোনার
সেই কাঙ্খিত মুহূর্তটির জন্য
আমি অপেক্ষা করেছি কতকাল,
কত হাজার রাত নির্ঘুম থেকেছি,
শুধু সেই অনুভূতি—
তোমার মুখের হাসি,
অনুভবের প্রস্তুতি নিতে—
শিমুল তুলোর মত উড়ে
আলতো করে তোমার গাল ছুঁয়ে
কানে গোঁজা গোলাপের পাঁপড়ি হয়ে
আমি কোন অতীতে হারিয়ে গেছি তোমাতে—
অতন্দ্রিলা,
জানোনি তুমি, জানবে—
হঠাৎ আমিহীন কোন এক নক্ষত্র-ছাওয়া রাতে।।


২২ ফেব, ২০১৪

পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ লবণপানি

'নৌকা ছাড়ল আন্ধারিয়া গ্রাম থেকে। বিয়ে করে শ্যামাকে নিয়ে সুকুমার রওয়ানা দিয়েছে দুপুরের দিকে। শ্যামা দেখতে পেল আন্ধারিয়ার মাটি, গাছ, ঘরবাড়ি একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছে। যেমন করে আন্ধারিয়ার বাঁশঝাড়ের ওই পারে অন্ধকার নামলে একটু একটু করে অদৃশ্য হয়ে যায় নদীর ওইপারের গ্রাম, আর কখনো কারো হাতে লণ্ঠন জ্বলে উঠলে নদীর পানিতে ভাসতে থাকা আলো জানান দেয় অদৃশ্য হলেই সব নাই হয়ে যায় না।'— পড়লাম এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত মোশাহিদা সুলতানা ঋতু'র প্রথম উপন্যাস 'লবণপানি'।